শিরোনাম
ঠাকুরগাওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অবৈধ ইট ভাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের দুই লক্ষ টাকা জরিমানা মিয়ানমার: সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল, প্রেসিডেন্ট এবং সু চি গ্রেফতার পিপলস ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অফ বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে বালিয়াডাঙ্গীতে গরীব ও অসহায় ছাত্রদের মাঝে সুইটার ও কম্বল বিতরণ ঢাকা থেকে বালিয়াডাঙ্গী রানিশংকৈলে ছেড়ে আসা রোজিনা পরিবহনে ডাকাতি,এক মহিলা ডাকাত আটক ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ছাত্রলীগের 73 তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ঠাকুরগাঁও এর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সৌদিআরবের বাদশাহ সালমান কর্তৃক ত্রাণ বিতরণ মনগড়া মিথ্যা প্রচার কারায় শাকিলসহ ৪ জনের নামে ল্যিগাল নোটিশ বালিয়াডঙ্গীতে মানববন্ধনও স্মারকলীপি প্রদান বালিয়াডাঙ্গীতে ৫০০ গরীব অসহায় মানুষের মধ্যে Global Relief Trust, (GRT) এর শীতবস্ত্র বিতরণ বালিয়াডাঙ্গীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ২
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০১:২০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
গনতদন্ত নিউজ এ আপনাকে স্বাগতম

করোনা উপসর্গে মৃত ব্যাক্তি লাশ গ্রহণ করেনি বাবা,মা ও ভাইয়েরা,মোবাইল ফোনের আলোয় লাশ দাফন করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ / ৩০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতের স্ত্রীকে বাড়িতে বসতে একটা চেয়ারও দেননি বাবা-মা। জানাযা দাফনে আসেনি ভাইয়েরা। মোবাইল ফোনের আলোয় লাশ দাফন করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কুমিল্লার দেবিদ্বারে এই ঘটনা ঘটে। মৃত অহিদুর রহমান (৩৮) দেবিদ্বার কুরুইন গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। দাফনের পর এ নিয়ে বুধবার (৩ জুন) পরিবার ও স্বজনদের অমানবিকতা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু কাউসার অনিক। তা নিয়ে জেলায় আলোচনার সৃষ্টি হয়। এদিকে মৃতের স্ত্রী’ নুসরাত জাহান নিপা জানান তার স্বামীর চিকিৎসা ও দাফনের করুণ কাহিনি। তার বর্ণনা শুনে যে কারো চোখে পানি চলে আসবে।

তিনি বলেন, তার স্বামী ওষুধ কোম্পানিতে চাকুরি করতেন। তারা থাকেন নগরীর রেইসকোর্স কাঠেরপুল এলাকায়। ছয়-সাত দিন থেকে জ্বর। আইইডিসিআর-এর নম্বরে যোগাযোগ করেন নমুনা নিতে। কিন্তু তারা ফোন ধরে না। ধরলেও বলে কুমিল্লায় যোগাযোগ করতে। সিটি করপোরেশনে যোগাযোগ করতে। সেখানে ফোন দিলে জানায়, যারা পরীক্ষা করতো তাদের একজনও আক্রান্ত। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে গিয়েও ব্যর্থ হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে জানায় নমুনার জন্য ভর্তি হতে হবে। এভাবে ঘুরাঘুরি করতে করতে সোমবার রাতে তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে ৯৯৯ নম্বরে কল দেন অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক ৩ কিলোমিটার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ যেতে দাবি করেন ১০ হাজার টাকা। পরে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করেন। সেটির চালক চান পাঁচ হাজার। সাড়ে তিন হাজার টাকায় রাজি করান। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে ছয় তলায় বেডে শোয়ানোর পর তিনি মা’রা যান। মারা যাওয়ার পর একজন নার্স আসেন। পরে ক্যানোলা দিয়ে ইনজেকশন দেন, কিন্তু তা আর শরীরের ভেতরে যায় না। এরপর ওই অ্যাম্বুলেন্সেই মৃ’তের বাবার বাড়ি দেবিদ্বারে যান। সেখানে সন্ধ্যায় পৌঁছানোর পর ওই বাড়ির লোকজন বলে অ্যাম্বুলেন্সের দরজা না খুলতে। তিনি স্বামীর লা’শ নিয়ে একা অ্যাম্বুলেন্সে বসে থাকেন। অন্যদিকে ভাবতে থাকেন তার বাসায় ছয় ও চার বছরের দুই ছেলে ও এক বছরের মেয়ে রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে এলেও বসতে কেউ একজন চেয়ার চাইতে গেলে তাও দেওয়া হয়নি। ওই বাড়ির এক ব্যক্তি লাশ এখানে দাফন না করার জন্য বলেন। সন্তানের লাশ দেখতে তার মা-বাবা কেউ আসেননি। জানাযায় কোনও ভাই আসেননি। আড়াই ঘণ্টা পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে দাফনের ব্যবস্থা করেন। তিনি ওই অ্যাম্বুলেন্সে ফিরে আসেন। অ্যাম্বুলেন্স চালক দাবি করেন ১৫ হাজার টাকা। অনুনয় করে তাকে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তিনি বলেন,তার স্বামী উপযু’ক্ত চিকিৎসা পায়নি। শেষ বিদায়ের সময় পায়নি স্বজনদের সম্মান।

উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু কাউসার অনিক বলেন, অহিদুর রহমানের লাশটি কবরে নামাতে আমাদের একটি কাপড়ের দরকার পড়ল। তার পরিবারের কাছে চাইলাম, কেউই দিতে এগিয়ে এল না। এক মহিলার একটি পুরনো ওড়না দিলেন। রাত তখন ৯টা পেরিয়ে। অহিদের মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমরা কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ ওরা ৪১ জনের টিম লাশ দাফনের জন্য তার বাড়িতে গেলাম। অহিদের বাড়ি গিয়ে যা দেখলাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা ভুলতে পারব না!

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ